শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
Logo আজ ১২ই ভাদ্র কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী Logo বাঁশখালীর চাম্বলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo বাঁশখালী-আনোয়ারা জেলেদের বিরোধ মিমাংসায় দুই উপজেলা প্রশাসনের বৈঠক Logo কুতুবদিয়ার কৃতিসন্তান আরিফ উল্লাহর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন Logo বাঁশখালীর মেয়ে মাসুমা রাঙ্গামাটির এসিল্যান্ড হওয়ায় অভিনন্দন জানালেন:আলহাজ্ব আসহাব উদ্দিন চেয়ারম্যান Logo বাঁশখালীর গন্ডামারায় নিখোঁজ চীনা নাগরিকের ডুবা থেকে লাশ উদ্ধার Logo সিআরবি এলাকা থেকে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বে (পিপিপি) হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প Logo শতবর্ষী সিআরবিতে হাসপাতাল নয় Logo কাথরিয়া ইউনিয়নে করোনা টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন Logo বাঁশখালীতে Covid-19 ভ্যাকসিন প্রদান উদ্বোধন করলেন সাংসদ মোস্তাফিজ

আজ ১২ই ভাদ্র কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী

নিউজ ডেস্ক / ৫১ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।
আজ ১২ই ভাদ্র কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী।
শিল্পী আব্বাসউদ্দিন একদিন কবি নজরুলের বাসায় গেলেন। গিয়ে দেখলেন কবি গভীর মনযোগে কী যেন লিখছেন। নজরুল আব্বাসউদ্দিনকে ইশারায় বসতে বললেন। ইতোমধ্যে জোহরের নামাজের সময় হয়ে গেলে আব্বাসউদ্দিন উসখুস করতে লাগলেন। নজরুল বললেন, ‘কি তাড়া আছে, যেতে হবে?’ আব্বাসউদ্দিন বললেন, ‘ঠিক তাড়া নেই, আমাকে নামাজ পড়তে হবে। আর এসেছি একটি ইসলামী গজল নিতে।’ নামাজ পড়ার কথা শুনে কবি আলমারি থেকে একটি চাদর এনে বিছিয়ে দিলেন। আব্বাসউদ্দিন নামাজ শেষ করে সামনে এলে কবি তাঁর হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এই নাও তোমার গজল।’ এটাই সেই গজল—
“হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয়-জায়নামাজ।
আমি গুনাহগার বে-খবর,
নামাজ পড়ার নাই অবসর
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
খোদায় ডাকার সময় না পাই
সে শয়তান যাক দূরে
শুনে তাকবীরের আওয়াজ।”

বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তার কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তার প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তার প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই “বিদ্রোহী কবি”, তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে।

নজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয়। স্থানীয় এক মসজিদে সম্মানিত মুয়াযযিন হিসেবেও কাজ করেছিলেন। কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে যেয়ে তিনি কবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এসময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মতো কবিতা; ধূমকেতুর মতো সাময়িকী। জেলে বন্দী হলে পর লিখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী, এই সব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট। ধার্মিক মুসলিম সমাজ এবং অবহেলিত ভারতীয় জনগণের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ। ধর্মীয় লিঙ্গভেদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত। বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন। এটি হল ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল, এর পাশাপাশি তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন। নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা “নজরুল গীতি” নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়।

মধ্যবয়সে তিনি পিক্স ডিজিজে[৮] আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন। এসময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD